বেশিরভাগ মানুষের ধারণা হার্ট অ্যাটক হয় বোধহয় নাটকীয়ভাবে—রোগী মারাত্মক ব্যথা অনুভব করে দুই হাতে বুক চেপে বসে পড়বে। তারপর জ্ঞান হারাবে। স্বজনরা ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে যাবে। নাটক-সিনেমায় হার্ট অ্যাটাকের এমন দৃশ্য অহরহ দেখা যায়।


কিন্তু এটাই হার্ট অ্যাটাকের সব সময়কার চিত্র নয়। চিকিত্সাবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, একজন মানুষের অগোচরেও তার হার্ট অ্যাটাক হতে পরে। তারা বলেছেন, হূদযন্ত্রে রক্ত সরবরাহ পথ যখন কোনো কারণে (বিশেষত ক্লটের দ্বারা) সংকুচিত কিংবা বন্ধ হয়ে যায় তখন হার্ট অ্যাটাক হয়। এসময় বুকে ব্যথা অনুভূত হয়। হূদযন্ত্রে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ না হওয়ায় রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। কিন্তু কোনো কোনো সময় বুকে ব্যথা ছাড়াও হার্ট অ্যাটক হতে পারে। কিংবা সামান্য ব্যথা অনুভূত হতে পারে যাকে লোকে ‘বদহজম’ বা ‘এসিডিটির ব্যথা’ বলে উপেক্ষা করে যেতে পারে। অথচ এমনও হতে পারে ওই ব্যথাটা ছিল আসলে ‘হার্ট অ্যাটাকের’।
একে নীরব হার্ট অ্যাটাক – Silent Heart Attack বলে উল্লেখ করেছেন তারা। নীরব হার্ট অ্যাটাককে উপেক্ষা করার কারণে পরে যখন বেশি মাত্রায় বুকে ব্যথা হয় তখন অনেকে হাসপাতালে যান। ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রামে তখন ধরা পড়ে হার্টের যথেষ্ট ক্ষতি হয়ে গেছে। ২০১৬ সালের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় ৪৫ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে নীরব হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা ঘটেছে। তারা বলেছেন, এখনকার মানুষ অনেক সচেতন হওয়ায় বুকে ব্যথাকে সবাই উপেক্ষা করে না। ফলে নিজের অজান্তে হূদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা কমে আসছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, নীরব হার্ট অ্যাটাক পুরুষের চেয়ে নারীদের ক্ষেত্রে বেশি ঘটে। পুরুষরা হূদরোগে বুকে ব্যথা, ক্লান্তি কিংবা ঝিমঝিম ভাব যতটা অনুভব করেন মহিলারা তুলনামুলক কম অনুভব করেন।